এই পর্যায়ে 'আহলে সুন্নত ওয়াল জামাত' নামক সংগঠনটিকেও আওয়ামীলীগ-ছাত্রলীগ-ইসকনের মত নিষিদ্ধ করে দেশের মুসলমানদের ঈমান আকীদা হেফাজত করা অত্যন্ত জরুরী।
জামাতের তিন বড় চ্যালেঞ্জ বা প্রতিপক্ষ
১. রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ : বহু ঘাত প্রতিঘাত শাহাদাত ও কঠিন সময়ের পর জামাত আওয়ামীলীগ নামক ঐ রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে সম্পূর্ণরূপে পরাজিত করেছে এবং দেশের মানুষকেও ঐ আওয়ামী দুর্বৃত্তায়ন থেকে মুক্ত করেছে।
২. ফিরকাগত প্রতিপক্ষ : ইসলামের একটি বাতিল ফিরকা যারা কোন কারণ ছাড়াই শুরু থেকেই জামাতকে নিজেদের দুশমন বানিয়েছে, দিনরাত জামাতকে গালি দেওয়া ছাড়া যেন তাদের আর কোন কাজ নাই, তাদের মিলাদ মাহফিল ওয়াজ ঐ জামাতকে গালি দিয়ে শুরু হয়, শেষও করে জামাতকে গালি দিয়েই। অথচ বহু ধর্মীয় বিষয়াদির যুক্তি তর্কে তারা হেরে গিয়ে শুধু গালি আর আস্ফালন দেখায়। তাদের নিজেদের কানযুল ঈমান গ্রন্থে তারা নিজেরাই মাওলানা মওদুদী (রঃ) এর তাফসীর গ্রন্থ তাফহিমুল কোরানের রেফারেন্স টানতে বাধ্য হয়। অথচ তারা দিনরাত মাওলানা মওদুদী (রঃ) কেও গালি দিয়ে বেড়াই। কোন মুসলমান গালি গালাজ করতে পারেনা, মুসলমান সমাজে গালি গালাজ ঢুকেছে হিন্দুদের থেকে আর তাদের দোসর লেবাস ও বেশধারী মাজারপূজারী ভন্ড আলেম ও তাদের অনুসরণকারী মুসলমানদের থেকে, ওরা মুসলমান নয়, ওরা আসলে হিন্দুই বা হিন্দুদেরই একটা ফিরকা, ওরা মুসলমান সেজে বেশ ও লেবাস পড়ে জিলাপি-বিরানী মার্কা ইবাদত বন্দেগীর বহর চালু করে, মিলাদ ওরশ জুলুস জলসা করে শ্রেফ দেশের প্রকৃত মুসলমানদের ধোঁকা দিয়ে যাচ্ছে এবং হিন্দুত্ববাদীদের পক্ষে ইন্ধন যুগিয়ে যাচ্ছে। তাই এখন সময় এসেছে এইসব হিন্দুবাদী ভন্ড আলেমদের থেকেও দেশ ও দেশের মুসলমানদের মুক্ত করা ঠিক যেভাবে দেশকে আওয়ামীলীগমুক্ত করা হয়েছে। মজার ব্যাপার বা পরিহাস হল এইসব ভন্ড আলেমরা ঐ পতিত আওয়ামীলীগেরই দোসর ছিল, ওদের মধ্যে বড় পিরিতি মিল মহব্বত ছিল, ওরা সবসময় আওয়ামীলীগকেই সাপোর্ট করে গেছে। সুতরাং এখন এটা দিনের আলোর মত পরিস্কার আওয়ামীলীগ যেমন একটি হিন্দুবাদী দালাল সংগঠন ছিল তেমনি এইসব ভন্ড আলেমদের সংগঠন 'আহলে সুন্নত ওয়াল জামাত'-ও একটি হিন্দুবাদী দালাল সংগঠন - এটা আরও পরিস্কার হয় যখন এই ফিরকারই এক ভারতীয় আলেমকে রামমন্দির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত হয়ে যোগ দিতে দেখে মুসলমানদের শত বাঁধা আপত্তি উপেক্ষা করেই ! সুতরাং এই পর্যায়ে 'আহলে সুন্নত ওয়াল জামাত' নামক সংগঠনটিকেও আওয়ামীলীগ-ছাত্রলীগ-ইসকনের মত নিষিদ্ধ করে দেশের মুসলমানদের ঈমান আকীদা হেফাজত করা অত্যন্ত জরুরী। রাজনৈতিক দল হওয়ার পাশাপাশি একটি ধর্মীয় দল হিসেবে বাংলাদেশ জামাত ইসলামীর এটা এখন অন্যতম প্রধান এজেন্ডা হওয়া উচিত। অবিলম্বে সংগঠন বা ফিরকাটি নিষিদ্ধ করে ওদের দখলে থাকা মসজিদ মাদ্রাসা মাজারসহ সব প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে ঐ সব ভন্ড আলেমদের তাড়িয়ে ওখানে হক্কানি আলেম ওলামাদের দায়িত্ব দিতে হবে - এতে করে দেশের ৯০ ভাগ মুসলমানদের ঈমান আকীদা কলুষমুক্ত হয়ে পবিত্র থাকবে, শিরক-বিদাত মুক্ত থাকবে।
আওয়ামীলীগের মত জামাতের এই ফিরকাগত প্রতিপক্ষও একদিন পরাজিত হবে।
৩. ধর্মীয় প্রতিপক্ষ : ইসলামের মর্মবাণী অনুযায়ী জামাত ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সব ধর্মের সহাবস্থানে বিশ্বাসী। কিন্তু এরপরও একটি বিশেষ ধর্মের অনুসারী, নামই নেওয়া যেতে পারে কারণ তারা এখন সবখানে অত্যন্ত অবভিয়াস - ভারতের হিন্দুধর্মের অনুসারীরা ঠিক আহলে সুন্নত ওয়াল জামাতের মতই শুরু থেকেই জামাতকে নিজেদের দুশমন বানিয়েছে এবং ওরাও সব জায়গায় জামাতকে দোষারোপ করে গালমন্দ করে ঠিক আহলে সুন্নীদের মতই। মিলটা লক্ষ্য করুন - জামাতকে গালি কে কে বা কারা কারা দিচ্ছে - আওয়ামীলীগ আহলে সুন্নী আর হিন্দু! সত্যিই সেলুকাস! যাই হোক ভারতের হিন্দুরা যে উগ্রবাদী সেটা সবাই জানে কিন্তু বাংলাদেশের হিন্দুরা শান্তিপ্ৰিয় ছিল, এমনকি জামাতেও বহু হিন্দু সদস্য ছিল বা আছে। অথচ হঠাৎ করে আমরা দেখতে পেলাম বাংলাদেশের হিন্দুরাও ভারতের হিন্দুদের মত উগ্র হয়ে উঠল এবং চিন্বয় দাসের হিন্দু গ্যাং জামাতের একজন তরুণ আইনজীবীকে প্রকাশ্য রাজপথে হত্যা করল। এটা বাংলাদেশের রাজপথে জামাতের প্রথম শাহাদাত তাদের তৃতীয় বড় প্রতিপক্ষ তথা ধর্মীয় প্রতিপক্ষটির বিপরীতে যেখানে প্রথম বড় প্রতিপক্ষ আওয়ামীলীগের বিপরীতে জামাত অসংখ্য অগণন শাহাদাত দিয়েছে এবং পরিশেষে প্রতিপক্ষটির চরমতম পরাজয় ঘটিয়েছে আল্লাহ তায়ালার ফজল ও করমে।
আল্লাহর কসম জামাতের দ্বিতীয় বড় প্রতিপক্ষ তথা 'আহলে সুন্নত ওয়াল জামাত' এবং তৃতীয় বড় প্রতিপক্ষ তথা উগ্র হিন্দুত্ববাদেরও একদিন ঠিক আওয়ামীলীগের মতই চরমতম পরাজয় ঘটবে হয়ত একইরকমভাবে অসংখ্য ও অগণন শাহাদাতের বিনিময়েই।
Comments
Post a Comment