বামপহ্নিরা হাইজ্যাকার!

বারবার গণভোটে হেরে যাওয়া ও গণধিকৃত কিছু উগ্র বামপন্থী এইভাবে এতবড় সাহস কেন কীসের ভিত্তিতে দেখাবে? 

এদের এই বেমানান ও বেয়াদবিপূর্ণ উচ্চকণ্ঠ ২৪ উত্তর বাংলাদেশ ও জাতি এবং বিপ্লব ঘটানো GenZ প্রজন্ম ও ইসলামী তৌহিদী জনতা কেন বরদাশত করবে? গণভোট ও গণবিপ্লবই শেষ কথা - দুটোতেই বামপন্থীরা হেরে যাওয়া কিছু উগ্র মানুষ।

ছাত্র ইউনিয়ন দেশের মানুষের কাছে বুয়া বুয়াই। ছাত্রলীগের মত বাম সংগঠনগুলোও নিষিদ্ধ করা উচিত, শুধু শুধু এই সংগঠনগুলো ঝামেলা বা গন্ডগোল করা ছাড়া আর কিছুই করতে পারে না, ৯০% মুসলমানের দেশ হওয়ায় ওরা ৯০ টা ভোটও পায় না, আসলে মুসলমানরা বামদের কখনই পছন্দ করেনি, তবে ফরহাদ মজহারের মত বামদের জ্ঞানের কারণে জামাত ঘরানার মানুষরা কিছুটা তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা রাখলেও এখন বোধ হয় আর সেটারও প্রয়োজন নাই, ঐ যে শুধু শুধু গন্ডগোলের দরকারটা কী? ৭১ স্বাধীনতাবিরোধী এসব বলতে বলতেই আওয়ামীলীগ নিঃশেষ হয়ে গেল, অথচ এরপরও এই বামরা আবার ঐসব বস্তাপঁচা স্বাধীনতা বুলি আবার আওড়ানো শুরু করে গন্ডগোল বাঁধাচ্ছে, আমরা আর কোন নতুন গন্ডগোল চায় না, তাই বাম সংগঠনগুলো নিষিদ্ধের দাবী জানাচ্ছি। ইসলামী তথা একটি মুসলমান সমাজ ও দেশের শান্তি ও স্থিতি রক্ষার্থে ছাত্রলীগের মত ছাত্র ইউনিয়নসহ সব বাম সংগঠনকেও নিষিদ্ধ করা জরুরী। আর বাম দল - জাসদ বাসদ এসবও নিষিদ্ধ করতে হবে, দরকারটা কী এদের? যখন দুটি ভোট পেয়ে ওরা দুটি আসন জয়ী হতে পারে না! কেন একটি রাষ্ট্র গণপ্রতিনিধিত্বহীন কিছু মানুষ, দল ও সংগঠনকে শুধু শুধু যখন তখন গন্ডগোল সৃষ্টি করার সুযোগ দিয়ে রাষ্ট্রের স্থিতি ও শান্তি বিনষ্ট করবে? 

শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে টিএসসি থেকে সরলো নিজামী-সাঈদীদের ছবি | TSC | Jamuna TV


ওরা ৭১ এর ভিত্তিতে এই সাহস দেখালে, ওদের সেই ভিত্তিও এখন দূর্বল। আসলে ওদের ভিত্তি ৭১ও নয় ওদের ভিত্তি যথারীতি নাস্তিকতা ও উগ্র হিন্দুত্ববাদ। ২৪ এর বিপ্লবের অগ্রজদের রাজাকার বলাটা একটা অপরাধ  হিসেবে গণ্য করে আইন চায় ২৪ এর সরকার বা ২৪ উত্তর সরকারের কাছে। যাদের ছবি টাঙানো হয়েছে ওঁনারাই ২৪ এর পটভূমি সৃষ্টিকারী অগ্রজ, ওনাদের আত্মত্যাগের কারণেই ২৪ সৃষ্টি হয়েছে, ওঁনাদের অনুজরাই বিশ্বকাঁপানো বিপ্লব ঘটিয়েছে। 

২৪ এর মুখোমুখি হওয়ার কোন এলিমেন্টই ৭১ এর নাই। 

২৪ ২৪ ঘন্টা চলমান আবেগ ও বাঁধাহীন স্বপ্ন আর ৭১ ১ দিনের স্মৃতি! ২৪ এর স্বাধীনতা ও বিজয় ভারত থেকে নিয়েছি যা ৭১ এর চেয়ে বড় ব্যাপক বাস্তব বহুমুখী ও আনকোরা, পক্ষান্তরে ৭১ বস্তাপঁচা সংকীর্ণ, শুধু ১৫০০ মাইল দূরের একটা দেশের বিরুদ্ধে অবান্তর ও এই যুগে বেমানান বিরোধীতা করা!

ইতিহাস কেবল ৭১ নয়, ৪৭ও ইতিহাস এবং সেটা ৭১ বা ২৪ এর চেয়েও বড় ইতিহাস যা ভুলে যাওয়া এই উপমহাদেশের প্র্যায় ১০০ কোটি মুসলমানের জন্য অকল্যাণকর ও ভয়ঙ্কর হবে। ইতিহাসকে ৭১ এ লক করা যাবে না, সেটা করতে গিয়েই আওয়ামীলীগের এই পরিণতি! 

বামপহ্নিরা হাইজ্যাকার! 

বামপহ্নিরা হাইজ্যাকার, এরা সমকালীন স্মার্ট রাজনীতির মারপ্যাঁচ ও ভোটের ময়দানে হেরে যাওয়া কিছু উগ্র মানুষ! হেরে গিয়ে ওরা ছাত্র জনতার বিপ্লব ও বিজয়কে হাইজ্যাক করার চেষ্টা করছে। জুলাই বিপ্লব ও আগস্ট বিজয় একান্তই সাধারণ ছাত্র জনতার বিপ্লব, সমন্নয়কদেরও নয়, কোন একক রাজনৈতিক দল বা সংগঠনের তো নয়ই। তবে এটা সম্পূর্ণ আলাদা বিষয় যে বিপ্লবে জামাত হেফাজত ও শিবিরের প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষ অবদান বেশী ছিল এবং ৫ আগষ্টের ফিনিশিংটা মূলত তাঁরাই করেছে, কারফিউ ভাঙ্গার সাহস ও প্ল্যানটা তাঁদেরই ছিল, ওটা না করলে ছাত্র জনতার সব আন্দোলন ঐদিনই ভেস্তে যেতে পারতো। জামাত হেফাজত বা শিবিরের ঐ অবদান জাতি প্রত্যক্ষ করেছে বলেই তাঁদের প্রতি জনসমর্থনের জোয়ারটা এসেছে এবং অন্তর্বতী সরকারও তাঁদের এই অবদানের স্বীকৃতি দিয়েছে। সেজন্যই মাঝে মাঝে জনগণের মনে হতে পারে রাজনৈতিক দল হিসেবে জামাত একটু বেশী সুবিধা পাচ্ছে। যদিও সেটা মাঝে মাঝে, কখনও কখনও কিন্তু বিএনপিও সুবিধা পাচ্ছে। যাই হোক, জুলাই বিপ্লব ও আগস্ট বিজয় একান্তই সাধারণ ছাত্র জনতার বিপ্লব, কোন একক রাজনৈতিক দল বা সংগঠন বা সমন্বয়করা এর কৃতিত্ব দাবী করতে পারে না। বলছিলাম বামপন্থীদের কথা, ওরা কিন্তু এই বিপ্লব ও বিজয়ের পুরো দৃশ্যপট থেকে ছিটকে পড়েছে, ওদের কোন অবদানই ছিল না বরং ওদের দুই চার নেতা ইনু মেনন দিলীপ বড়ুয়ারা তো বাম নীতি বিসর্জন দিয়ে বুর্জোয়া আওয়ামীলীগের পা চাটছিল। বামপন্থীদের মত জাতীয় পার্টিরও বিপ্লব বা বিজয়ে অবদান শূন্য। আওয়ামীলীগের সাথে সাথে জাতীয় পার্টি ও বামপন্থীরাও যেন এই বিপ্লব ও বিজয়ের মধ্য  দিয়ে বাংলাদেশের রাজনীতির দৃশ্যপট থেকে সাইডলাইন হয়ে গেছে বা সম্পূর্ণ গুরত্বহীন হয়ে গেছে। অবাক বিস্ময়ে বামপন্থীরা দেখতে পেল অভূতপূর্ব ও অবিসংবাদিত এক গণবিপ্লব থেকে তারা সম্পূর্ণ ছিটকে পড়েছে এবং বিপ্লব ও বিজয়ের পুরো ক্রেডিট জামাত শিবিরের হাতে চলে গেছে। তাই ওরা এখন সেটাকে জামাত শিবিরের হাত থেকে হাইজ্যাক করার প্ল্যান নিয়ে মাঠে নেমেছে। 
 

বুয়া ৫২ ও ব্লান্ডার ৭১ এবং প্রাইড ৪৭ ও ২৪

৫২ এর ভাষা আন্দোলন ও ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধ দুটোই ছিল বুয়া ধাপ্পাবাজি চাপাবাজি ব্লাফ ও ব্লান্ডার। এই বুয়া ব্লাফ ও ব্লান্ডারের মূল হোতা বা কারিগর ছিল কলকাতার হিন্দু বুদ্ধিজীবীরা। এটা বাংলাদেশের বাঙ্গালী মুসলমানদের কোন গৌরবময় অর্জন নয় বরং ওটা ছিল বাঙ্গালী হিন্দুদের ছলাকলাময় অর্জন। বাংলাদেশের বাঙ্গালী মুসলমানদের গৌরবময় অর্জন ছিল ৪৭ এর পাকিস্থান। ৫২ তে বাঙ্গালী মুসলমানকে বিভ্রান্ত করা হয়েছে আর ৭১ এ তাদের দিয়ে ব্লান্ডার করানো হয়েছে। কলকাতার হিন্দু বাঙ্গালী কুশীলবরা পশ্চাদপদ গরীব বাঙ্গালী মুসলমানদেরকে বলির পাঁঠা বানিয়ে তাদের দিয়ে বুয়া ৫২ ও ব্লান্ডার ৭১ সৃষ্টি করেছিল ৪৭ এর রিএকশন হিসেবেই। পাকিস্থানকে দূর্বল ও ব্রেক করাই ছিল তাদের মূল উদ্দেশ্য। বাংলাদেশের বাঙ্গালী মুসলমানদেরকে পাকিস্থান হত্যা করেনি, হত্যা করেছে মূলত ভারত, ঐ যে বলির পাঁঠা বানানো - পাকিস্থানকে দিয়ে মূলত ভারতই বাংলাদেশের বাঙ্গালী মুসলমানদেরকে হত্যা করেছিল। বলির পাঁঠা বনে যাওয়া বাঙ্গালী মুসলমানরা ৫০ বছরেরও বেশী সময় বুয়া ৫২ ও ব্লান্ডার ৭১ এ বুদ থাকার পর ২০২৪ এ এসে বিশ্বকাঁপানো বিপ্লব ঘটিয়ে কলকাতার সেই হিন্দু কুশীলবদের জবাব দিয়েছে, ওদেরকেই সবচেয়ে বেশী কাঁপিয়ে দিয়েছে, জবাব পেয়ে গেছে ভারতও - ২৪ এর অভূতপূর্ব গণবিপ্লব দেখে ওরা এখন চোখে সর্ষেফুল দেখছে! ৪৭ এর মত ২৪ও বাংলাদেশের বাঙ্গালী মুসলমানদের আরেকটি গৌরবময় অর্জন।

জুলাই ঘোষণাপত্র ২৪ কে ম্লান করলো: ব্যারিস্টার ফুয়াদ | Barrister Fuaad | Jago News


এতবছর পর এসে বুয়া ৫২ সৃষ্টি করা সেই ভারতও জিন্নাহর পথ বেছে নিচ্ছে! উর্দু নিয়া জিন্নাহ যেটা করেছিল সেটা যে যথার্থ সঠিক ও সংহতিমূলক রাষ্ট্রীয় জরুরী পদক্ষেপ ছিল সেটাই এখন প্রমাণ হচ্ছে। 
 

ভারতজুড়ে হিন্দি ভাষা চাপাতে চান মোদি? | Language Uprising | Cultural Conflict | India | যুগান্তর


জিন্নাহর কী দোষ ছিল তাহলে? 

জিন্নাহ যেটা সেসময় বুঝেছিল, মোদী সেটা প্রায় ১০০ বছর পর এসে বুজতে পারলো  বাংলাদেশের ভাষা আন্দোলন বাংলাদেশের বাঙালিরা করেনি, এরাই অর্থাৎ পশ্চিমবঙ্গের হিন্দু বাঙালিরাই করেছিল, রফিক সালাম বরকতদের কান ও বিবেক চিলে অর্থাৎ ভারতের হিন্দু বাঙালিরা নিয়ে গিয়েছিল। আরেকটি ভাষা আন্দোলন হবে, এর মানে আগেরটা এরাই করেছিল - 

পাকিস্থান নাকি বাঙালির মুখের ভাষা কেড়ে নিতে চেয়েছিল, পশ্চিম বঙ্গের বজ্জাত বাঙালি বুদ্ধিজীবীরা ছল করা বাঙালি তত্ত্ব দিয়ে পাকিস্তান ভেঙেছিল, অথচ ইউটিউবে দেখলাম অনলাইন যুগের এক সাধারণ বাঙ্গালী মেয়ে (বাংলাদেশের মেয়ে - রফিক সালাম বরকতদের অযোগ্য বোন) কী চমৎকার হিন্দি কাম উর্দুতে হিন্দিভাষী ভারতীয় এক সাংবাদিককে ৫ আগস্ট বিপ্লবের বর্ণনা দিচ্ছে। এটা সম্ভবত হালে বাংলাদেশে জনপ্রিয় হওয়া পাকিস্তানী উর্দু ড্রামার ফল। এতেও প্রমাণ হয় বুয়া ৫২ এর অসারতা ও অপ্রয়োজনীয়তা। আমি ভিডিওটির টাইটেল ভুলে গেছি বলে সেটা ইউটিউবে সার্চ দিতে পারিনি, তাই এখানে ভিডিওটি দিতে পারলামনা বলে দুঃখিত, তবে ওটা ইউটিউবে ঐ ভারতীয় সাংবাদিকের চ্যানেলে নিশ্চ্য় মজুদ আছে। দেখলাম বাংলাদেশের বাঙালি মেয়েটি এখন কী সুন্দর হিন্দি কাম উর্দু বলছে। মাল্টি লেঙ্গুয়েজ স্পোকেন হওয়াটা অগ্রসরতা ও আধুনিকতা। পাকিস্তানীরা অগ্রসর ও আধুনিক ছিল বলেই উর্দু রাষ্ট্রভাষা করতে চেয়েছিল, কোন বৈষম্য করতে নয় অথচ সেই সময়কার পশ্চাদপদ বাঙালিরা সেটা বুঝতে না পেরে পশ্চিম বঙ্গের বুদ্ধিজীবীদের ছল করে চাপিয়ে দেওয়া বাঙালি তত্ত্বের উপর আন্দোলন শুরু করে দিয়েছিলো। ভারত বা পাকিস্তানে আজ হিন্দি ও উর্দু রাষ্ট্রভাষা হওয়াতে তো কোন জাতিগোষ্ঠীর কোন সমস্যা হচ্ছেনা। দুই দেশের মানুষই এখন মাল্টি স্পোকেন! অর্থাৎ কলকাতার বাঙালিরা বাংলাও বলে হিন্দিও বলে, আমরাও বাংলাও বলতাম উর্দুও বলতাম, কোন সমস্যা তো ছিল না!

বাংলা হত উর্দুও হত! ভারতের কলকাতা তে যেমন বাংলাও হয় হিন্দিও হয়। ওটা একটা ষড়যন্ত্র ছিল, যার মুখোশ সময় ও বাংলাদেশের প্রজন্ম উন্মোচন করেছে। তোকে বলছি যে এখনও বুয়া ৫২ নিয়ে গর্ব করিস, তুই একটু দৃষ্টি টা বড় কর, পাকিস্তানের ভিন্ন ভিন্ন ভাষাভাষী বলুচি সিঁন্ধি দের দেখার তোর দরকার নাই, তাঁরা কিভাবে সিন্ধি বলুচির সাথে সাথে উর্দুও বলে সেটা তোর দেখার দরকার নাই, তুই তোর রাম বাপের দেশ ভারতের তামিল মারাঠি বাঙালিদের দেখ, ওরা কিভাবে তামিল মারাঠি বাংলার সাথে সাথে হিন্দিও বলে সেটা দেখ, ইউটিউবে দেখ, তারপর তুই নিজেই বুজবি সব। সে সময় পিছিয়ে থাকা বাঙালিকে বোকা ও বলির পাঠা বানিয়ে আবেগ উসকে দিয়ে পশ্চিমবঙ্গের হিন্দু বাঙালি বুদ্ধিজীবীরা বাংলাদেশের উপর ৫২ এর ভাষা আন্দোলন চাপিয়ে দিয়েছিল শুধুমাত্র পাকিস্থান কে ঠেকাতে, বাংলাদেশের প্রতি বা বাংলাদেশের বাঙালিদের প্রতি দরদ নিয়ে নয়। 









Comments