হাদী ও সাঈদী !!

হাদী ও সাঈদী !!

হাদিকে হত্যা করা হয়েছে তিন রাষ্ট্রের পররাষ্ট্র সেটআপের মাধ্যমে। বালাকৃষ্ণ, জয়শঙ্কর ও তৌহীদের ফাঁসি চায়। জয়শঙ্করের ডিক্টেশন ও তৌহীদ হোসেনের গ্রিন সিংনাল পেয়ে বালাকৃষ্ণ হাদীর জীবন প্রদীপ নিভিয়ে দিয়েছে, জাগ্রত  জীবনমৃত বাংলাদেশকে খুন করেছে। হাদীর পরিবারের অসম্মতি, মেডিকেল বোর্ডের ন্যাচারাল এওয়েট টাইম স্পান উপেক্ষা এবং কুইন এলিজাবেথ হাসপাতালের সাথে জয়েন্ট মেডিক্যাল সেল গঠনে বাঁধা দিয়ে বালাকৃষ্ণ অনেকটা জোর করে  অপারেশন স্টার্ট করে হাদিকে খুন করেছেন। নতুবা হাদী মালালার মত ফিরে না আসলেও হয়তো আরও অন্তত একটি সপ্তাহ আমাদের হাদী আমাদের মাঝে থাকতো। হাদী মরে যাওয়ার হলে স্পটেই মারা যেত অথবা ঢাকায়ই মারা যেত, এক সপ্তাহ সে কাম ব্যাক ফেইজে ছিল, অথচ এই সিঙ্গাপুরি হাসপাতাল ও বালাকৃষ্ণ হাদীকে দুই দিনের কম সময়েই হত্যা করলেন, সিঙ্গাপুরে স্থানান্তরের পরও হাদীর কামব্যাক হোপ বেড়েছিল, চিকিৎসককে সাড়াও দিয়েছিলেন হাদী। কিন্তু হায় আফসোস বর্বর অমানবিক ভারত আমাদের হাদীকে বিদেশের মাটিতে দ্বিতীয়বারের মত খুন করলো। এ তো গেল হাসপাতালের শয্যায় ভারতের দ্বিতীয় বাংলাদেশীকে খুন। এর আগে প্রথম হাসপাতালের শয্যায় ভারত খুন করেছিল জামাতের সাঈদীকে। হাদী ও সাঈদীর হত্যা একই সূত্রে গাঁথা, ঘটনাচক্রে দুজনেই আবার একই জেলা বরিশালের বাসিন্দা এবং দুজনই ছিল নিজ নিজ সময়ের দেশ কাঁপানো জাগ্রত বিবেক তথা জাগ্রত বাংলাদেশ তথা বিপ্লবী বাংলাদেশের প্রতিচ্ছবি ও ভারতীয় আধিপত্যবিরোধী উর্বর মস্তিস্ক ও উচ্চ কণ্ঠস্বর। সেই মস্তিস্ক ও কণ্ঠস্বর স্তব্ধ করে দেওয়া হলেও লক্ষ কোটি আরও উর্বর ও উচ্চ মস্তিস্ক ও কণ্ঠস্বর আল্লাহ এই জমিনে তৈয়ার করে দিয়েছেন যারা সিসাঢালা প্রাচীরের মত দাঁড়িয়ে সমশ্বরে শ্লোগানে শ্লোগানে তাবেদার ঢাকা ও গাদ্দার-কিলার দিল্লীর মাথায় আঘাত করতে থাকবে -

তুমি কে? আমি কে?
হাদী! হাদী!

তুমি কে? আমি কে?
সাঈদী! সাঈদী!

আমি কে? তুমি কে?
হাদী! হাদী!

আমি কে? তুমি কে?
সাঈদী! সাঈদী!

হাদী ও সাঈদী - ভারতের জন্য দুটি বাংলাদেশী হাইপার স্পেকট্রাল হাইপারসনিক মিজাইলের মত ছিল, সম্ভবত ভারত পাকিস্থানি ও চাইনিজ হাইপারসনিককেও অতটা ভয় পায়নি যতটা এই দুই বাংলাদেশী হাইপারসনিক মিজাইলকে দেখে ভয় পেয়েছিল। আমরা এমনই অর্থাৎ বাংলাদেশীরা এমনই, আমরা গরীব হলেও (ঘটনাচক্রে হাদী ও সাঈদী দুজনই গরীব ঘরানারই মানুষ ছিলেন) আমাদের রাজনৈতিক প্রজ্ঞা উপমহাদেশে শ্রেষ্ট, খোদ ব্রিটেন ও পাকিস্থান আমাদের এই বিষয়ে স্যালুট দেয়, সম্মান করে কিন্তু ভারত করে তাচ্ছিল্য। আমরা সামরিক হাইপারসনিক বানাতে না পারলেও ঠিকই আমরা রাজনৈতিক হাইপারসনিক বানাতে পারি, বানাতে পারি জুলাই বম্ব, ওহ সরি জুলাই বিপ্লব। জুলাই বিপ্লবের পর এটা ভারত হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছে। হাসিনার মত মোদীর গদিও নড়বড়ে, যেকোনো সময় ভারতের উপরও উদয় হতে পারে জুলাই বম্ব (ওটাকে বম্ব বলাই যেতে পারে), পালিয়ে যেতে হতে পারে মোদী ও বিজেপি নেতাদের হাসিনা ও আওয়ামীলীগ নেতাদের মত। বম্ব বা বোমার কথা যখন এসেই গেল তখন প্রকৃত সত্যটাও বলে ফেলি - ভারত পারমাণবিক বোমাকেও অত ভয় পায় না যত ভয় পায় জামাত ইসলামকে !

Comments