বাংলাদেশ গুলিবিদ্ধ ও শোকে মুহ্যমান!

বাংলাদেশ গুলিবিদ্ধ ও শোকে মুহ্যমান!

বাংলাদেশ গুলিবিদ্ধ! নির্বাচন গুলিবিদ্ধ! বিপ্লব গুলিবিদ্ধ!

বাংলাদেশ গুলিবিদ্ধ ও শোকে মুহ্যমান
কেবল বিবেকহীন ও ক্ষমতালোভীরাই ভাবছে উৎসবমুখর নির্বাচন।

হাদিই বাংলাদেশ, হাদিই নির্বাচন, হাদিই বিপ্লব! হাদিকে নয় বাংলাদেশকে গুলি করা হয়েছে, নির্বাচনকে গুলি করা হয়েছে, বিপ্লবকে গুলি করা হয়েছে। গুলিবিদ্ধ বাংলাদেশে উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচন কেবল নির্বোধেরা ও ক্ষমতালোভীরাই ভাবতে পারে, হাদিকে ধারণকারীরা তথা বিপ্লবকে ধারণকারীরা নয়। বাংলাদেশকে যে শক্তি গুলি করেছে সেই শক্তিকে গুলির জবাব গুলি দিয়েই দিতে হবে, যে শক্তি নির্বাচনকে গুলি করেছে তারও উপযুক্ত সময়য়ে ও পন্থায় জবাব দিতে হবে এবং যে শক্তি আমাদের বিপ্লবকে গুলি করেছে সেই শক্তিকে সেই বিপ্লবের হুমকিতেই রাখতে হবে। এখন হাসিনার বিচারের চেয়েও বেশী জরুরী হাদি হত্যার বিচার। হাদি হত্যার বিচারের আগে উৎসবমুখর নির্বাচনের কথা যারা বলছেন তারা হাদির দরদী নয়, বিপ্লবের পক্ষের শক্তি নয়। কাল তারেক জিয়াকে গুলি করা হলে বিএনপি কি নির্বাচনে যাবে? হাদি খালেদা জিয়ার সন্তান না হলেও হাদি এখন কোটি বাংলাদেশী বাবা মায়ের সন্তান। আর কোটি কোটি বাংলাদেশী গুলিবিদ্ধ সন্তানের ক্ষত নিয়ে উৎসবমুখর নির্বাচন করবে? এটা একেবারেই স্বাভাবিক ও সুস্থমস্তিস্ক সম্পন্ন কাজ হবে না, প্ল্যান করে নির্বাচনের আগেই হাদিকে গুলি করা হয়েছে, যাতে নির্বাচনের মুলা ঝুলিয়ে রেখে হাদি হত্যার বিচারকে খাটো বা ভুলিয়ে দেওয়া যায়। কিন্তু লাখ লাখ জুলাইযোদ্ধা বেঁচে থাকতে সেটা হবে না। হাদি গুলিবিদ্ধ হয়নি, লাখো জুলাইযোদ্ধাকে আরও একবার গুলি করা হয়েছে। বিপ্লবী বাংলাদেশকে গুলি করা হয়েছে। তাই প্রয়াজনে আবারও বিপ্লব করতে হবে। তবে দ্রুত জরুরীভিত্তিতে সরকার ২৪ দিনের মধ্যে হাদি হত্যার পূর্ণাঙ্গ বিচার ও রায় কার্যকর করে দেখাতে পারলে নির্বাচনে কেউ বাঁধা দেবে না। হাদি হত্যার বিচার, রায় কার্যকর ও হাসিনার রায় কার্যকর করার পরই কেবল বিপ্লবী বাংলাদেশে নির্বাচন উৎসবমুখর ও অর্থপূর্ণ হবে। ফন্দি ফিকির জোড়াতালি মন ভুলানো কথা দিয়ে বিপ্লবী প্রজন্মকে বোকা বানানো যাবে বলে যদি কোন মহল ভেবে থাকেন তাহলে ওরাই আসলে বোকার স্বর্গে বাস করছেন। যে প্রজন্মটি অমন বিশ্ব কাঁপানো বিপ্লব করতে পারে তাঁরা আর যাই হোক অন্তত বোকা নয়। তাঁরা যে আরও কী করতে পারে সেটা সময়ই বুঝিয়ে দেবে।

এক মুহূর্তের জন্যও আন্দোলন বন্ধ করা যাবেনা। সকাল বিকাল দিন রাত শিফট করে ২৪ ঘন্টা আন্দোলন জারি রাখতে হবে, ২৪ দিনের মধ্যে হাদীর খুনির ফাঁসি সেই জায়গায় কার্যকর করতে হবে যে জায়গায় সে হাদিকে গুলি করেছিল। হাদীর খুনিকে ক্রেনে উঠিয়ে প্রকাশ্য দিবালোকে প্রকাশ্য রাজপথেই ফাঁসি কার্যকর করতে হবে। ২৪ দিনে কাজ না হলে এরপর দেওয়া হবে ফাইনাল ২৪ ঘন্টা ২৪ এর বাংলাদেশকে রক্ষা করতে ও বিপ্লবকে পূর্ণাঙ্গ করতে।

দুই আওয়ামীলীগ তথা ফ্যাসিবাদবিরোধী মহা আইকনের মহাপ্রয়াণ কাছাকাছি সময়েই।

শরীফ ওসমান হাদি ও বেগম খালেদা জিয়া দুজনই ছিলেন আওয়ামীলীগবিরোধী দেশের সর্বোচ্চ ও বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর। তাঁরা দুজনই নিজেদের জীবনকে পণ করেছিলেন আওয়ামীলীগকে হঠাতে। অবশেষে তাঁরা ঠিকই নিজেদের জীবন দিয়ে আওয়ামীলীগকে চিরতরে হঠিয়ে দিয়েছেন। কাছাকাছি সময়েই এই দুই আওয়ামীলীগবিরোধী মহা আইকন দুই বৃহৎ জানাজা ও গণ মানুষের চোখের জল নিয়ে পরপারের যাত্রা শুরু করেছেন। আল্লাহ দুজনকেই পরকালে উচ্চ মকাম দান করুক। আমীন।

কোথায় শরীফ হাদি ও বেগম জিয়ার মকাম আর কোথায় হাসিনা ও শুটার ফয়সালের মকাম? ভাবুন একবার!

পরপারের মকামের জন্য আমরা কেবল দোয়া করতে পারি এবং আমরা সেটা করেছি, করবো। এদিকে ইহকালে কিন্তু আল্লাহ আমাদেরকে ইতিমধ্যেই শরীফ হাদি ও বেগম জিয়ার মকাম দেখিয়ে দিয়েছেন। এত সুবৃহৎ জানাজা ক'জনের ভাগ্যে জুটে? যাই হোক অন্যদিকে এই দুজনের খুনী হাসিনা ও শুটার ফয়সালের ইহকালের মকাম ভাবুন - ফাঁসি অথবা অন্য কোনভাবে দুনিয়া থেকে বিদায় হয়ে যাবে - হয়তো জানাজা পড়ার লোকও পাওয়া যাবে না যেমন পাওয়া যায়নি শেখ মুজিবের জানাজা পড়ার লোক!

Comments