মুসলমান কোন মানুষকে দেবত্ব দিতে পারেনা, এমনকি কোন নবীকেও নয় !

মুসলমান কোন মানুষকে দেবত্ব দিতে পারেনা সে যত বড় মানুষ বা পিতা বা নেতাই হোক না কেন? এমনকি কোন নবীকেও দেবত্ব দেওয়া ইসলামে নাই। ইসলামে দেবত্ব এককভাবে কেবল আল্লাহর জন্যই নির্দিষ্ট। আমাদের রসূলও সেই শিক্ষায় উম্মতকে দিয়ে গেছেন অথচ এক শ্রেণীর মুসলমানরা তা সত্ত্বেও আল্লাহর পাশাপাশি রসুলকেও দেবত্ব দিয়ে বসে আছে এবং পারলে সাহাবাদেরও যেন দেবত্ব দেয়, পারলে কাবা শরীফে রসূল ও সাহাবাদের মূর্তি বসিয়ে দেয় প্রাক-ইসলাম যুগের মূর্তিগুলোর মতই - তাই এই শ্রেণীর মুসলমানরা আসলে মুশরিকই, এদের থেকে সাবধান থাকা বাকী মুসলমানদের জন্য ফরজ। কোথাও কোন মানুষ নেতা পিতা বা কবি সাহিত্যিক বা অন্য কোন গুণী মানুষকে দেবত্ব দিয়ে প্রতিকৃতি, অবয়ব বা অবকাঠামো থাকলে সেগুলো ভেঙ্গে ফেলাও মুসলমান দেশের মুসলমানদের জন্য ফরজ। এই ধারায় পাকিস্থানের জিন্নাহ, বাংলাদেশের মুজিব জিয়ার প্রতিকৃতি কবর বা মাজার কিংবা অন্যান্য কবর বা মাজার যেগুলোতে শিরকের সম্ভাবনা রয়েছে সেগুলো সব ভেঙ্গে ফেলতে* হবে কারণ এগুলো আলটিমেটলি মুশরিকি বা শিরকের পথই সুগম করছে। শেখ মুজিবের কবর ছুঁয়ে শপথ নেওয়া বা সেটাকে মাজার বানিয়ে সেখানে গিয়ে কিছু করা শিরকের পথ। জিন্নাহ, জিয়া বা অন্যদের বেলায় একই কথা প্রযোজ্য। 

*নূরা পাগলার*"কবর যেভাবে ভাঙ্গা হয়েছে ঠিক সেভাবে ঐসব কবরগুলোও ভেঙ্গে ফেলা তাওহীদবাদীদের জন্য ফরজ, অন্তত মুসলমান দেশের মুসলমানদের জন্য সেটা ফরজ। ভারতে গান্ধীর প্রতিকৃতি বা অবয়ব থাকতে পারে সেখানে মুসলমানদের কিছু করার নাই বরং অমুসলিমদের মূর্তি রক্ষা করাটাও মুসলমানদের জন্য বাঞ্চনীয় - এটাই কোরান হাদিসের তথা ইসলামের শিক্ষা। 

*" নূরা পাগলা নিজের কবর রক্ষার জন্য বুদ্ধি কম খাটায়নি, কবরকে সে কাবার আদলে বানানোর ব্যবস্থা করে গিয়েছিল যাতে কেউ তার কবরে হাত দিতে না পারে যেটা তাওহীদবাদীদের জন্য আরও আক্রোশের কারণ হয়েছিল। পরিশেষে নূরা পাগলার কবর ঠিকই ভাঙ্গা হল, তবে লাশ উঠিয়ে পুড়িয়ে ফেলাটা বোধহয় একটু বাড়াবাড়ি হয়েছে, সম্ভবত ঐ আক্রোশের কারণেই সেটা করা হয়েছে, তাওহীদবাদীরা শিরকের কোন চিহ্ন অবশিষ্ট রাখতে চায়নি এবং একটা দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করতেই সেটা করেছিল। এতদসত্ত্বেও লাশ পুড়ানোটা বাড়াবাড়ির পর্যায়ে গেছে বলেই প্রতীয়মান হয়েছে আর কোরানে বলা হয়েছে আল্লাহ বাড়াবাড়ি এবং যারা সেটা করে তাদেরকে পছন্দ করেন না। তাই ভবিষ্যতে মুজিব জিন্নাহ জিয়ার কবর কাম মাজার ভাঙ্গার সময় বিষয়টা গুরুত্বের সাথে বিবেচনায় রাখতে হবে। ক্যাটেগরিক্যালি, সিস্টেমেটিক্যালি ভাঙতে হবে কেবলই আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন ও শিরকের পথ বন্ধ করাকে উদ্দেশ্য হিসেবে রেখে ভাঙতে হবে, কোন প্রকার আক্রোশের বশবর্তী হয়ে নয়। 

---

কবর উচা করা ইসলামে সিদ্ধ নয় বা জরুরী বা ফরজ কোন বিষয় নয়। এমনকি সেটা নবী রসূলদের ক্ষেত্রেও নয়। সেটা যদি হত তাহলে এক লাখ বা মতান্তরে দুই লাখ চব্বিশ হাজার নবী রসূলদের কবর নিশ্চয় আল্লাহ সংরক্ষণ করতেন কিন্তু সেটা হয়নি অর্থাৎ সকল নবী রসূলদের কবর দুনিয়াতে সংরক্ষিত নেই। যেখানে নবী রসূলদের কবর সংরক্ষণ করাই আল্লাহর কাছে বা ইসলামে জরুরী নয় সেখানে সাধারণ মানুষের কবর বা এই বাবা সেই বাবার, এই নেতা সেই পিতার কবর বা মাজার বা অন্য কারো উচা উচা কবর বানিয়ে শিরক ও শিরকের ঝুঁকি মওজুদ রাখা ইসলামসিদ্ধ নয় বলেই মনে করার অবকাশ আছে, তাই কোন মুসলমানের কবর উচা করা থেকে বিরত থাকতে হবে এবং সকল মুসলমানের উচা করা কবর স্বাভাবিক সমান করে দিতে হবে। অমুসলিমরা - ইহুদি খ্রিস্টানরা কবর নিয়ে যাই করুক সেটা আমাদের দেখার প্রয়োজন আছে বলে মনে করিনা, ওরা কবর উচা করে, নেইমপ্লেট ইত্যাদি লাগায়, ফুল-বুঁকে ছড়ায় - এসব আসলে খ্রিস্টানদেরই রীতি, মুসলমানদের নয়। ওদিকে হিন্দুদের রীতি পুড়িয়ে ফেলা। মুসলমান রীতিতে কবর দেওয়া, খ্রিস্টান রীতিতে সমাধিস্থ করা বা হিন্দু রীতিতে পুড়িয়ে ফেলা - এসবই একান্তই অঞ্চল বা সম্প্রদায়ভিত্তিক নৃতাত্ত্বিক প্রথা বা পদ্ধতি - এর কোনটিতেই অথবা নতুন কোন পদ্ধতিতেও ইসলামে কোন আপত্তি নাই, ইসলাম কেবল মারাত্মক আপত্তি করে মানব পূজাতে (জীবিত বা মৃত) বা আল্লাহ ছাড়া অন্য কোন কিছুর পূজা বা ইবাদত করাতে তথা শিরক করাতে। 

মুসলমান রীতিতে কবর কিংবা খ্রিস্টান রীতিতে সমাধি বা হিন্দু রীতিতে পুড়িয়ে ফেলা হলেও ইনসান নিজের কবরেই থাকে, কবরী জিন্দেগীতেই থাকে বা কবরের জগতেই থাকে অর্থাৎ কবর মানে মাঠির নীচে কোন কিছু নয়, ওটা মাঠির উপরেও হতে পারে (যেমনকি ক্রায়োনিক্স সিস্টেম), এমনকি হতে পারে মহাকাশেও - কবর হচ্ছে একটি মধ্যবর্তী জগৎ - আলমে বারজাখ যেটি কিয়ামতের দিন শেষ হয়ে যাবে। 

উপরোক্ত আলোচনা থেকে বুঝা গেল কবর কোন জরুরী বা ইসলামে মৌলিক বা ফরজ কোন বিষয় নয়। হ্যাঁ, ফরজে কেফায়া তো বটে অর্থাৎ মৃত ব্যক্তির শেষ কৃত্য কাছের মানুষ করবে - এটা একান্ত স্বাভাবিক অর্থাৎ ফরজে কেফায়া না হলেও মানুষ এটা করত বা করবে। 

Comments